image

দোল মঞ্চ তুলসী মঞ্চ ইত্যাদি Dol Moncha Tulsi Manchoa etc

দোল মঞ্চ
বাংলার সমাজে বৈষ্ণব প্রভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে মন্দির স্থাপত্যে যে বিষয়গুলি দেখা দিল তার মধ্যে দোল মঞ্চ এবং তুলসী মঞ্চ অন্যতম। প্রধানত অষ্টাদশ শতাব্দীতে দোলমঞ্চের ব্যবহার শুরু হয়। চারটি স্তম্ভের ওপর সাধারণভাবে একটি বর্গাকার কাঠামো, যার চারপাশে অনেকগুলি প্রবেশ পথ আছে। দোল উৎসবের সময় দেবতা এখানে অধিষ্ঠিত হন এবং দোল খেলায় অংশগ্রহণ করেন। যেহেতু এই স্থাপত্যটির মূল উদ্দেশ্য ভক্তগণ যাতে দেবতার দর্শন পায় তা নিশ্চিত করা সেজন্য মানুষ প্রমাণ উঁচু ভিতের ওপর এই কাঠামো নির্মিত হতো । সাধারণত পরিকাঠামোটিতে রেখ, চালা বা রত্নশৈলীর ব্যবহার হতো। বছরে মূলত একবারই দোল মঞ্চ ঘিরে দেবতা এবং ভক্তেরা সমবেত হন। এরপর বিগ্রহ মূল মন্দিরে ফিরে যায়।

তুলসী মঞ্চ
বৈষ্ণব মতে বিষ্ণুর প্রতিরূপ নারায়ণ সেবার জন্য মাঙ্গলিক অধিষ্ঠান হিসাবে বাড়ির উঠোনে তুলসী মঞ্চ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছোট স্থাপত্য। মন্দিরের ক্ষুদ্র রূপ হিসাবে এই তুলসী মঞ্চ গুলি নির্মিত হতো। মন্দির প্রাঙ্গণে এই ছোট অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। তুলসী মঞ্চের দৈনন্দিন ব্যবহার আছে।
:

Dol mancha
The growth of Vaishnava influence in Bengali society led to the emergence of distinct architectural features in temples, including Dol Mancha and Tulsi Mancha. Dol Mancha, primarily used in the 18th century, is a square structure supported by four pillars, with multiple entrances, where the deity resides during the Dol festival. The structure’s human-height foundation ensures devotees can glimpse the deity, while its framework often features Rekh, Chala, or Ratnashaili designs. Once a year, deities and devotees gather around the Dol Mancha, after which the idol returns to the main temple.

Tulshi mancha
Tulsi Mancha, a small yet significant architectural feature in the temple courtyard, serves as a Manglik adhistana for Vishnu’s replica, Narayana Seva, according to Vaishnava tradition. These miniature temple forms are built to house the sacred Tulsi plant. Unlike Dol Mancha, Tulsi Mancha has daily significance and is an essential part of the temple premises.

পঞ্চরত্ন Pancharatna

পিংলা রাধাকান্ত মন্দির Pingla Radhakanta Temple

রাধাকান্ত মন্দির, পিংলা (থানা– পিংলা, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ বহু প্রাচীন কালের এক দেবী– পিঙ্গলাক্ষী। তাঁর নাম থেকেই জনপদটির নাম হয়েছিল পিংলা। মাহিষ্যরাই ছিলেন পিংলার মুখ্য জাতি সম্প্রদায়। তিন-চার শ’ বছর আগের কথা। বাংলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকটি বনেদি ও সম্ভ্রান্ত পরিবার এসে পিংলায় বসত গড়ে তোলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তাঁরা সকলেই ছিলেন কায়স্থ জাতিভুক্ত। তাঁদের অনেকেই ছোট-বড় […]

Read More
নবরত্ন Nova Ratna

নরসিংহপুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির Narsinghapur Lakshminarayan Temple

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, নরসিংহপুর (থানা– নন্দীগ্রাম, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ ইং ১৭৯৩ সাল। বাংলার সমাজ জীবনের এক ক্রান্তিকাল। যুগান্তকারী সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন সূচনার বছর। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের ৩ বছর পর, ১৭৬০ সালে মীর জাফরকে সরিয়ে, মীরকাসেমকে নবাবের আসন দেয় ইংরেজরা। ইনাম হিসাবে চাকলা বর্ধমান, চাকলা মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রামের ইসলামাবাদ থানার অধিকার  ইংরেজকে প্রদান করেন  মীর কাসেম।  পুনরায় […]

Read More
পঞ্চরত্ন Pancharatna

রাজবল্লভ রামেশ্বর শিব মন্দির Rajballav Rameshwar Shiva Temple

রামেশ্বর শিব মন্দির, রাজবল্লভ (পিংলা, মেদিনীপুর জেলা) চিন্ময় দাশ ” দানে চনু, অন্নে মনু, রঙ্গে রাজনারায়ণ। / কীর্ত্তে ছকু, বিত্তে নরু, রাজা যাদবরাম।। ”  এককালে মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রচারিত ছিল প্রবাদটি। মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত। প্ৰবাদবাক্যটি তৈরী হয়েছিল ৬ জন জমিদারকে নিয়ে। নিজের নিজের কীর্তি আর গুণে খ্যাত হয়েছিলেন এঁরা। মেদিনীপুরের মুখ উজ্বল করেছিলেন। […]

Read More
নবরত্ন Nova Ratna

হাঁদলাগড় ব্রজনাগর মন্দির Handlagarh Brajanagar Temple

ব্রজনাগর মন্দির, হাঁদলাগড় (নারায়ণগড় থানা, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ নারায়ণগড় রাজবংশ। আদি পুরুষ বা রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গন্ধর্ব পাল। শেষ রাজা ছিলেন পৃথ্বীবল্লভ। দুই রাজার কালপর্বের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছ’শ বছরের। ইং ১২৬৪ সাল থেকে ১৮৮৩। গন্ধর্ব পালের কুলজী নিয়ে নানা মত। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন বর্ধমানের কোনও এক অমরাবতী গড়ের দিকনগর গ্রামের অধিবাসী। অন্যরা বলেন, বর্ধমান […]

Read More
আটচালা Aath chala

আলুই তিনটি শিব মন্দির Alui Three Shiva Temples

৩টি শিব মন্দির, আলুই (ঘাটাল) চিন্ময় দাশ চেতুয়া, কুতুবপুর-চেতুয়া, বরদা, জাহানাবাদ-বরদা, নাড়াজোল ইত্যাদি কতকগুলি পরগণা নিয়ে গঠন ঘাটাল মহকুমার। একসময় এই এলাকা ছিল রাজা শোভা সিংহের অধিকারে। কৃষিসেচের উন্নতির জন্য পুস্করিণী খনন, জলপথে পণ্য-পরিবহনের জন্য নদী-নালার সংস্কার, গ্রামীণ হস্তশিল্পের বাণিজ্য প্রসারের জন্য নতুন নতুন বাজারের পত্তন– বহু কাজ করেছিলেন শোভা সিংহ। বিশেষত জলপথ আর বাজারের […]

Read More
আটচালা Aath chala

নন্দীগ্রাম জানকীনাথ মন্দির Nandigram Janakinath Temple,

জানকীনাথ মন্দির, নন্দীগ্রাম (নন্দীগ্রাম– ১ / মেদিনীপুর ) চিন্ময় দাশ রানির হাতে মন্দির পত্তনের কথা উঠলে, মেদিনীপুর জেলায় ২ রানীর নাম উল্লেখ করে থাকেন ঐতিহাসিকেরা। পূর্বে মহিষাদলের রানি জানকী দেবী, আর পশ্চিমে শিলদার রানি কিশোরমণি। রাজ্য পরিচালনায় কিশোরমণি এতটাই দক্ষ ছিলেন, তাঁকে “রাজা” নামে উল্লেখ করা হোত। যাক, সে অন্য প্রসঙ্গ। মহিষাদলে উপাধ্যায় রাজবংশের পত্তন […]

Read More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দোল মঞ্চ তুলসী মঞ্চ ইত্যাদি Dol Moncha Tulsi Manchoa etc

দোল মঞ্চ
বাংলার সমাজে বৈষ্ণব প্রভাব বৃদ্ধির সাথে সাথে মন্দির স্থাপত্যে যে বিষয়গুলি দেখা দিল তার মধ্যে দোল মঞ্চ এবং তুলসী মঞ্চ অন্যতম। প্রধানত অষ্টাদশ শতাব্দীতে দোলমঞ্চের ব্যবহার শুরু হয়। চারটি স্তম্ভের ওপর সাধারণভাবে একটি বর্গাকার কাঠামো, যার চারপাশে অনেকগুলি প্রবেশ পথ আছে। দোল উৎসবের সময় দেবতা এখানে অধিষ্ঠিত হন এবং দোল খেলায় অংশগ্রহণ করেন। যেহেতু এই স্থাপত্যটির মূল উদ্দেশ্য ভক্তগণ যাতে দেবতার দর্শন পায় তা নিশ্চিত করা সেজন্য মানুষ প্রমাণ উঁচু ভিতের ওপর এই কাঠামো নির্মিত হতো । সাধারণত পরিকাঠামোটিতে রেখ, চালা বা রত্নশৈলীর ব্যবহার হতো। বছরে মূলত একবারই দোল মঞ্চ ঘিরে দেবতা এবং ভক্তেরা সমবেত হন। এরপর বিগ্রহ মূল মন্দিরে ফিরে যায়।

তুলসী মঞ্চ
বৈষ্ণব মতে বিষ্ণুর প্রতিরূপ নারায়ণ সেবার জন্য মাঙ্গলিক অধিষ্ঠান হিসাবে বাড়ির উঠোনে তুলসী মঞ্চ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছোট স্থাপত্য। মন্দিরের ক্ষুদ্র রূপ হিসাবে এই তুলসী মঞ্চ গুলি নির্মিত হতো। মন্দির প্রাঙ্গণে এই ছোট অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। তুলসী মঞ্চের দৈনন্দিন ব্যবহার আছে।
:

Dol mancha
The growth of Vaishnava influence in Bengali society led to the emergence of distinct architectural features in temples, including Dol Mancha and Tulsi Mancha. Dol Mancha, primarily used in the 18th century, is a square structure supported by four pillars, with multiple entrances, where the deity resides during the Dol festival. The structure’s human-height foundation ensures devotees can glimpse the deity, while its framework often features Rekh, Chala, or Ratnashaili designs. Once a year, deities and devotees gather around the Dol Mancha, after which the idol returns to the main temple.

Tulshi mancha
Tulsi Mancha, a small yet significant architectural feature in the temple courtyard, serves as a Manglik adhistana for Vishnu’s replica, Narayana Seva, according to Vaishnava tradition. These miniature temple forms are built to house the sacred Tulsi plant. Unlike Dol Mancha, Tulsi Mancha has daily significance and is an essential part of the temple premises.

পঞ্চরত্ন Pancharatna

পিংলা রাধাকান্ত মন্দির Pingla Radhakanta Temple

রাধাকান্ত মন্দির, পিংলা (থানা– পিংলা, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ বহু প্রাচীন কালের এক দেবী– পিঙ্গলাক্ষী। তাঁর নাম থেকেই জনপদটির নাম হয়েছিল পিংলা। মাহিষ্যরাই ছিলেন পিংলার মুখ্য জাতি সম্প্রদায়। তিন-চার শ’ বছর আগের কথা। বাংলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকটি বনেদি ও সম্ভ্রান্ত পরিবার এসে পিংলায় বসত গড়ে তোলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে তাঁরা সকলেই ছিলেন কায়স্থ জাতিভুক্ত। তাঁদের অনেকেই ছোট-বড় […]

Read More
নবরত্ন Nova Ratna

নরসিংহপুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির Narsinghapur Lakshminarayan Temple

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, নরসিংহপুর (থানা– নন্দীগ্রাম, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ ইং ১৭৯৩ সাল। বাংলার সমাজ জীবনের এক ক্রান্তিকাল। যুগান্তকারী সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন সূচনার বছর। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের ৩ বছর পর, ১৭৬০ সালে মীর জাফরকে সরিয়ে, মীরকাসেমকে নবাবের আসন দেয় ইংরেজরা। ইনাম হিসাবে চাকলা বর্ধমান, চাকলা মেদিনীপুর এবং চট্টগ্রামের ইসলামাবাদ থানার অধিকার  ইংরেজকে প্রদান করেন  মীর কাসেম।  পুনরায় […]

Read More
পঞ্চরত্ন Pancharatna

রাজবল্লভ রামেশ্বর শিব মন্দির Rajballav Rameshwar Shiva Temple

রামেশ্বর শিব মন্দির, রাজবল্লভ (পিংলা, মেদিনীপুর জেলা) চিন্ময় দাশ ” দানে চনু, অন্নে মনু, রঙ্গে রাজনারায়ণ। / কীর্ত্তে ছকু, বিত্তে নরু, রাজা যাদবরাম।। ”  এককালে মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রচারিত ছিল প্রবাদটি। মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত। প্ৰবাদবাক্যটি তৈরী হয়েছিল ৬ জন জমিদারকে নিয়ে। নিজের নিজের কীর্তি আর গুণে খ্যাত হয়েছিলেন এঁরা। মেদিনীপুরের মুখ উজ্বল করেছিলেন। […]

Read More
নবরত্ন Nova Ratna

হাঁদলাগড় ব্রজনাগর মন্দির Handlagarh Brajanagar Temple

ব্রজনাগর মন্দির, হাঁদলাগড় (নারায়ণগড় থানা, মেদিনীপুর) চিন্ময় দাশ নারায়ণগড় রাজবংশ। আদি পুরুষ বা রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গন্ধর্ব পাল। শেষ রাজা ছিলেন পৃথ্বীবল্লভ। দুই রাজার কালপর্বের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ছ’শ বছরের। ইং ১২৬৪ সাল থেকে ১৮৮৩। গন্ধর্ব পালের কুলজী নিয়ে নানা মত। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন বর্ধমানের কোনও এক অমরাবতী গড়ের দিকনগর গ্রামের অধিবাসী। অন্যরা বলেন, বর্ধমান […]

Read More
আটচালা Aath chala

আলুই তিনটি শিব মন্দির Alui Three Shiva Temples

৩টি শিব মন্দির, আলুই (ঘাটাল) চিন্ময় দাশ চেতুয়া, কুতুবপুর-চেতুয়া, বরদা, জাহানাবাদ-বরদা, নাড়াজোল ইত্যাদি কতকগুলি পরগণা নিয়ে গঠন ঘাটাল মহকুমার। একসময় এই এলাকা ছিল রাজা শোভা সিংহের অধিকারে। কৃষিসেচের উন্নতির জন্য পুস্করিণী খনন, জলপথে পণ্য-পরিবহনের জন্য নদী-নালার সংস্কার, গ্রামীণ হস্তশিল্পের বাণিজ্য প্রসারের জন্য নতুন নতুন বাজারের পত্তন– বহু কাজ করেছিলেন শোভা সিংহ। বিশেষত জলপথ আর বাজারের […]

Read More
আটচালা Aath chala

নন্দীগ্রাম জানকীনাথ মন্দির Nandigram Janakinath Temple,

জানকীনাথ মন্দির, নন্দীগ্রাম (নন্দীগ্রাম– ১ / মেদিনীপুর ) চিন্ময় দাশ রানির হাতে মন্দির পত্তনের কথা উঠলে, মেদিনীপুর জেলায় ২ রানীর নাম উল্লেখ করে থাকেন ঐতিহাসিকেরা। পূর্বে মহিষাদলের রানি জানকী দেবী, আর পশ্চিমে শিলদার রানি কিশোরমণি। রাজ্য পরিচালনায় কিশোরমণি এতটাই দক্ষ ছিলেন, তাঁকে “রাজা” নামে উল্লেখ করা হোত। যাক, সে অন্য প্রসঙ্গ। মহিষাদলে উপাধ্যায় রাজবংশের পত্তন […]

Read More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *