
বাংলার নিজস্ব মন্দির রীতি অর্থাৎ চালা মন্দিরের সাথে সর্বভারতীয় শিখর রীতির মিশ্রণে সৃষ্টি হল রত্নশৈলী। বাংলার পূর্ব পশ্চিম দুদিকেই এই রীতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এই রীতিতে চালা রীতির শৈলীতে নির্মিত মন্দিরের ওপরে আরেকটি ছোট মন্দির তৈরি করা হতো। এটি মূলত অলংকারের অংশ। চালা আচ্ছাদনটি নিচু হলেও অল্প ঢালু ছাদ এবং ধনুকাকৃতি কারনিসের মধ্যেই এর মূল বৈশিষ্ট্যটা নিহিত আছে। এর ওপরে ছোট মন্দির আকৃতির শিখরটিকেই রত্ন নামে অভিহিত করা হয়। তৈরি হতো এক রত্ন মন্দির।
পরবর্তীতে চালার সংখ্যা এবং কার্নিশের কোনায় রত্নের সংখ্যা বাড়িয়ে একরত্ন থেকে ২৫ রত্ন মন্দির পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। সব সময়ই মধ্যবর্তী চূড়া বা রত্নটি প্রধান এবং তুলনায় বড় করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রায়শই এই প্রশ্নটি ওঠে যে চূড়া বা রত্নের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ানো এটি হিন্দু ঘরানার অংশ , নাকি মুসলিম ঘরানার অংশ। ছাদের বিভিন্ন তলে ছত্রী বা ডোমের পুঞ্জিভূত রূপ এটা মুসলিম স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য। আবার হিন্দুদের রথেও এই ঘরানার সুস্পষ্ট ছাপ আছে। বিশিষ্ট পন্ডিত ডেভিড ম্যাককাচ্চন (12-08-1930 – 12-01-1972) দেখিয়েছেন যে ইন্দো ইসলামিক সময়কালের আগে এই ঘরানার কোন অস্তিত্ব ছিল না। বিষ্ণুপুরে মল্ল রাজারাই এই ঘরানাটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।
যাইহোক রত্ন রীতির তিনটি সম্ভাব্য উৎস হলো –
১) পূর্বে স্থাপিত একটি ডোম (single domed ) সম্বলিত মসজিদের সাথে এক রত্ন মন্দিরের স্থাপত্য জনিত এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
২) একরত্ন মন্দিরের চারদিকের বারান্দা , পূর্ববর্তী ঘরানায় রেখ দেউলের চারপাশে পরিক্রমা পথের সাথে সাযুজ্য যুক্ত। এই হিসাবে রেখদেউলের থেকে এক রত্ন মন্দিরের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।
৩) মধ্য এবং উত্তর ভারতে কিছু মধ্যযুগীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এই রত্ন মন্দিরে দেখা যায়। বিশেষত মন্দিরের চারদিক দিয়ে প্রবেশদ্বার , চারপাশের পরিক্রমা পথ এবং এর আচ্ছাদিত ছাদের চার কোনায় ছত্রীর উপস্থিতি পঞ্চরত্ন মন্দিরের সাথে তুলনীয়।
উৎস যাই হোক না কেন এই রত্ন রীতি বিশেষ করে পঞ্চরত্ন বা নবরত্ন বাংলায় খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
The Ratnashaili or pinacled style emerged as a unique fusion of Bengal’s indigenous Chala temple architecture and the All-India Shikhar style. This distinctive style gained widespread popularity in both eastern and western Bengal.
Characterized by a small temple built atop a Chala-style temple, the Ratnashaili served primarily as a decorative element. Despite the low Chala cover, its sloping roof and arched cornice were notable features. The small temple-shaped peak above was referred to as a Ratna.
Initially, single-gem (Ek Ratna) temples were constructed, but later designs featured increased numbers of roofs and Ratnas at the cornice corners, ranging from one to twenty-five Ratnas. The central crest or Ratna was consistently emphasized and enlarged.
The gradual proliferation of ratnas / churas or jewels raises questions about the style’s origins, sparking debate over whether it belongs to Hindu or Muslim architectural traditions. While the stacking of chhatris or domes on multiple roof levels is characteristic of Muslim architecture, similar elements appear in Hindu chariots.
Renowned scholar David McCutcheon (1930-1972) argued that this genre did not precede the Indo-Islamic period. Instead, it was popularized by the Malla kings of Bishnupur.
Three possible sources have been identified for the Ratna style:
1. Architectural similarities with single-domed mosques.
2. The veranda surrounding Ekaratna temples, reminiscent of the circumambulation path around Rekh Deul temples.
3. Influences from medieval temple architecture in Central and North India, evident in features like multiple entrances, circumambulatory paths, and corner canopies.
Regardless of its origins, the Ratna style, particularly the Pancharatna (5 ratnas) and Navaratna (9 ratnas ) variations, became immensely popular in Bengal.
নশিপুর ২৫ রত্ন মন্দির Nasipur 25 ratna Temple
Normal বাংলায় যে ৬টি ২৫ চূড়া মম্দির রয়েছে তার মধ্যে মুর্শিদাবাদে নসিপুরের মন্দিরটি অন্যতম। নসিপুরের রাজবাড়ির ভেতরে এই মন্দিরটির অবস্থান। মন্দিরের গায়ে মার্বেল পাথরের একটি ফলকে দেখা যায় যে এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৭৯৩ সাল। তৎকালীন জমিদার দেবী সিং রাজবাড়িটি নির্মান করেন ১৭৭৬ সালে এবং মন্দিরটি রাজা উদমন্ত সিংহ প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৯৩ সালে। মন্দিরের মধ্যে এবং রাজব [...]
Read Moreপাথরা শিব মন্দির Pathra Shib Temple
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাথরা অঞ্চলে যে মন্দিরগুলি রয়েছে তার মধ্যে পঞ্চরত্ন মন্দিরটি অন্যতম। রাস্তার বাম পাশে মন্দিরটি সহ আরো কয়েকটি মন্দির আছে। পুর্বমুখী এই মন্দিরটি কংসাবতী নদীর ধারে অবস্থিত। ফলকলিপি আনুসারে দেখা যায় যে মন্দিরটি ১৭৪৯ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮২৮ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত।১৯৯৮ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, মন্দিরটির সংস্কার করেন এ [...]
Read Moreপাথরা নবরত্ন মন্দির Pathra Nabaratna Temple
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাথরা অঞ্চলে যে মন্দিরগুলি রয়েছে তার মধ্যে নবরত্ন মন্দিরটি খুব উল্লেখযোগ্য। রাস্তার ডান পাশে পাঁচ ফুট নিচে নবরত্ন মন্দিরটি সহ আরো কয়েকটি মন্দির আছে। পশ্চিমমুখী এই মন্দিরটি কংসাবতী নদীর ধারে অবস্থিত। মন্দিরের চূড়ায় প্রথম তলে চারটি দ্বিতীয় তলে চারটি এবং কেন্দ্রীয় চূড়াসহ নবরত্ন মন্দিরটি এক সময় প্রচুর টেরাকোটা অলংকারে ভূষ [...]
Read Moreরাধাকান্তজিউ মন্দির মল্লিকচক শিববাজার Radhakanta Jiu Temple Mallik Chalk Shibbazar
মেদিনীপুর শহরে মল্লিক চক অঞ্চলে মল্লিক পরিবারের প্রতিষ্ঠিত রাধাকান্ত জিউ মন্দিরটি অনবদ্য। নবরত্ন মন্দির টি পূর্বমুখী এর পাশেই আরেকটি নবরত্ন মন্দির আছে সেখানে দুর্গা পূজিত হন। এই পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায় তাদের পূর্বপুরুষ জন্মেঞ্জয় মল্লিক এই নবরত্ন রাধাকান্ত মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন ভিখারি রক্ষিত তিনি ব্যবসা উপলক্ষে উড়ি [...]
Read Moreইটান্ডা পঞ্চরত্ন মমন্দির Itanda Pancha Ratna Temple
বীরভূম জেলায় বোলপুর থানার অন্তর্গত একটি গ্রাম ইটান্ডা। বোলপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গ্রামটি অবস্থিত। এই গ্রামে বাজার পাড়ায় একটি পঞ্চরত্ন ঘরানার মন্দির আছে।মন্দিরটি ১২৩৫ বঙ্গাব্দ বা ১৭৫০ শকাব্দে প্রতিষ্ঠিত ।দক্ষিনমুখী মন্দিরটি আবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। Itanda is a village under Bolpur police station in Birbhum district. The village is located 15 kilom [...]
Read Moreঘুরিষা নবরত্ন মন্দির Ghurisa Naba ratna Temple
বীরভূমের ইলামবাজার থানার অন্তর্গত ঘুড়িষা গ্রাম এক বর্ধিষ্ণু এলাকা। এই গ্রামে যে কটি টেরাকোটা অলংকৃত ইটের মন্দির আছে তার মধ্যে অন্যতম নবরত্ন মন্দির। শ্রী শ্রী গোপাল ও লক্ষী জনার্দন বিগ্রহ এখানে পূজিত হন। ১১৪৫ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৩৮ খৃষ্টাব্দে ক্ষেত্রনাথ দত্ত এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরে প্রচুর টেরাকোটা ফলক রয়েছে। Ghurisha village under Ila [...]
Read More